- প্রথম পাতা
- দোয়া
- উমরাহর সম্পূর্ণ দোয়া
উমরাহর সম্পূর্ণ দোয়া
ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও নামাজের দোয়া এক পৃষ্ঠায়: আরবি, অর্থ ও সূত্র।
ইহরামের দোয়া
1. নিয়তের দোয়া
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَيَسِّرْهَا لِي وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي
হে আল্লাহ! আমি উমরাহর নিয়ত করছি; তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.6
2. তালবিয়া
لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 1549; Muslim 1184
তাওয়াফের দোয়া
1. তাওয়াফ শুরু
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.14
2. ১ম চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ، وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ سَعْيًا مَشْكُورًا، وَذَنْبًا مَغْفُورًا، وَعَمَلًا صَالِحًا مَقْبُولًا، وَتِجَارَةً لَنْ تَبُورَ. اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ دَعَوْتَ عِبَادَكَ إِلَى بَيْتِكَ الْحَرَامِ، وَقَدْ جِئْتُ طَالِبًا مَرْضَاتَكَ، وَأَنْتَ مَنَنْتَ عَلَيَّ بِذٰلِكَ، فَاغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَعَافِنِي وَاعْفُ عَنِّي، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَزَائِرُكَ، وَلِكُلِّ زَائِرٍ حَقٌّ عَلَى مَزُورٍ، وَأَنْتَ خَيْرُ مَزُورٍ، فَأَسْأَلُكَ أَنْ تَغْفِرَ لِي، وَتَرْحَمَنِي، وَتَفُكَّ رَقَبَتِي مِنَ النَّارِ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু। হে আল্লাহ! একে বানিয়ে দিন প্রশংসিত প্রচেষ্টা, ক্ষমাপ্রাপ্ত গুনাহ, কবুলকৃত নেক আমল এবং এমন ব্যবসা যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের আপনার পবিত্র ঘরের দিকে আহ্বান করেছেন, আর আমি আপনার সন্তুষ্টি কামনা করে এসেছি, এবং আপনিই আমাকে এই অনুগ্রহ দান করেছেন; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে নিরাপত্তা দিন এবং আমাকে মাফ করুন; নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা ও আপনার মেহমান; প্রত্যেক মেহমানের যার কাছে সে আসে তার উপর হক থাকে, আর আপনি সর্বোত্তম মেজবান; তাই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন এবং আমার গর্দানকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করুন। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.14-17
3. ২য় চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي. رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي. لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ. اَللّٰهُمَّ إِنَّ هٰذَا الْبَيْتَ بَيْتُكَ، وَالْحَرَمَ حَرَمُكَ، وَالْأَمْنَ أَمْنُكَ، وَالْعَبْدَ عَبْدُكَ، وَأَنَا عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ، أَتَيْتُكَ بِذُنُوبٍ كَثِيرَةٍ، وَأَعْمَالٍ سَيِّئَةٍ، وَهٰذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ النَّارِ، فَحَرِّمْ لُحُومَنَا وَبَشَرَتَنَا عَلَى النَّارِ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ. رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا وَفَهْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ. اَللّٰهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ سَعْيًا مَشْكُورًا، وَذَنْبًا مَغْفُورًا، وَعَمَلًا صَالِحًا مَقْبُولًا، وَتِجَارَةً لَنْ تَبُورَ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। হে আমার রব! আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র; নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। হে আল্লাহ! এই ঘর আপনার ঘর, এই হারাম আপনার হারাম, এই নিরাপত্তা আপনার নিরাপত্তা, আর বান্দা আপনারই বান্দা; আমি আপনার বান্দা ও আপনার বান্দার সন্তান। আমি অনেক গুনাহ ও মন্দ আমল নিয়ে আপনার কাছে এসেছি, আর এটি জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয়প্রার্থীর স্থান; সুতরাং আমাদের গোশত ও চামড়াকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিন; নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। হে আমার রব! আমার জ্ঞান ও বোধ বৃদ্ধি করুন এবং আমাকে নেককারদের সাথে মিলিত করুন। হে আল্লাহ! ঈমানকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন এবং আমাদের অন্তরে তা সুশোভিত করে দিন, আর কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে আমাদের কাছে ঘৃণ্য করে দিন এবং আমাদের সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ! একে বানিয়ে দিন প্রশংসিত প্রচেষ্টা, ক্ষমাপ্রাপ্ত গুনাহ, কবুলকৃত নেক আমল এবং এমন ব্যবসা যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.18-21
4. ৩য় চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ. رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ وَالْكُفْرِ وَالشِّرْكِ، وَالشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَالرِّيَاءِ، وَسُوءِ الْأَخْلَاقِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَمِنْ عَيْنٍ لَا تَدْمَعُ، وَمِنْ دُعَاءٍ لَا يُسْتَجَابُ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ سَعْيًا مَشْكُورًا، وَذَنْبًا مَغْفُورًا، وَعَمَلًا صَالِحًا مَقْبُولًا، وَتِجَارَةً لَنْ تَبُورَ. يَا عَالِمَ مَا فِي الصُّدُورِ، أَخْرِجْنِي يَا اَللّٰهُ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি; যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি রহম না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি রহম করুন, আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমতো আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার উপর আপনার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, কেননা আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই খিয়ানত, কুফর ও শিরক থেকে, বিভেদ, নিফাক ও লোকদেখানো থেকে এবং মন্দ চরিত্র থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই এমন জ্ঞান থেকে যা উপকারে আসে না, এমন অন্তর থেকে যা বিনয়ী হয় না, এমন নফস থেকে যা তৃপ্ত হয় না, এমন চোখ থেকে যা অশ্রু ঝরায় না এবং এমন দোয়া থেকে যা কবুল হয় না। হে আল্লাহ! একে বানিয়ে দিন প্রশংসিত প্রচেষ্টা, ক্ষমাপ্রাপ্ত গুনাহ, কবুলকৃত নেক আমল এবং এমন ব্যবসা যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হে অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত! হে আল্লাহ! আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনুন। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.22-26
5. ৪র্থ চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ. رَبِّ قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَنِي، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِي مِنْكَ بِخَيْرٍ. رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا، رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا، رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ، وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا، أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ. اَللّٰهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِي مِنَ النِّفَاقِ، وَعَمَلِي مِنَ الرِّيَاءِ، وَلِسَانِي مِنَ الْكَذِبِ، وَعَيْنِي مِنَ الْخِيَانَةِ، فَإِنَّكَ تَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ. اَللّٰهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ، لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَقِنِي سَيِّئَ الْأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الْأَخْلَاقِ، لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই আপনার রহমত অবধারিতকারী বিষয়সমূহ ও আপনার ক্ষমা নিশ্চিতকারী আমল, সকল গুনাহ থেকে নিরাপত্তা, সকল নেকির অংশ, জান্নাত লাভের সাফল্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি। হে আমার রব! আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তাতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন, যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন এবং আমার প্রত্যেক হারানো জিনিসের বদলে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম কিছু দান করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে নিফাক থেকে, আমার আমলকে লোকদেখানো থেকে, আমার জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে এবং আমার চোখকে খিয়ানত থেকে পবিত্র করুন; কেননা চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় আপনি জানেন। হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম আমল ও সর্বোত্তম চরিত্রের পথ দেখান, আপনি ছাড়া কেউ সর্বোত্তমের পথ দেখাতে পারে না; আর আমাকে মন্দ আমল ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা করুন, আপনি ছাড়া কেউ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে না। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.27-31
6. ৫ম চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلٰوةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً، إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ. رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ، وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا. رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ، وَتَوَفَّنِي مُسْلِمًا، وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ. اَللّٰهُمَّ أَظِلَّنِي تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِكَ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّكَ، وَلَا بَاقِيَ إِلَّا وَجْهُكَ، وَاسْقِنِي مِنْ حَوْضِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرْبَةً هَنِيئَةً مَرِيئَةً، لَا أَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ. وَأَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আমার রব! আমাকে ও আমার বংশধরদের মধ্য থেকে (অনেককে) নামাজ কায়েমকারী বানান; হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী। হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানান। হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন; আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে মিলিত করুন। হে আল্লাহ! যেদিন আপনার ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না এবং আপনার সত্তা ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, সেদিন আমাকে আপনার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিন; আর আপনার নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর হাউজ থেকে আমাকে এমন সুপেয় ও তৃপ্তিদায়ক পানীয় পান করান, যার পর আমি আর কখনো পিপাসার্ত হব না। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সকল কল্যাণ চাই, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, যা আমি জানি এবং যা জানি না; আর সকল অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, যা আমি জানি এবং যা জানি না। আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ চাই, আর জাহান্নাম এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ আপনার কাছে যে কল্যাণ চেয়েছেন, আমিও তা চাই; আর আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ যে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন, আমিও তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.32-37
7. ৬ষ্ঠ চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا. وَاكْتُبْ لَنَا فِي هٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ. رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ. رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ، وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا، رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ. اَللّٰهُمَّ إِنَّ لَكَ عَلَيَّ حُقُوقًا كَثِيرَةً فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ، وَحُقُوقًا كَثِيرَةً فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ خَلْقِكَ، اَللّٰهُمَّ مَا كَانَ لَكَ مِنْهَا فَاغْفِرْهُ لِي، وَمَا كَانَ لِخَلْقِكَ فَتَحَمَّلْهُ عَنِّي. وَأَغْنِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَبِطَاعَتِكَ عَنْ مَعْصِيَتِكَ، وَبِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ، يَا وَاسِعَ الْمَغْفِرَةِ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়। হে আল্লাহ! আমার ও আপনার মাঝে আমার উপর আপনার অনেক হক রয়েছে, এবং আমার ও আপনার সৃষ্টির মাঝেও অনেক হক রয়েছে। হে আল্লাহ! এর মধ্যে যা আপনার, তা আমাকে ক্ষমা করে দিন; আর যা আপনার সৃষ্টির, তা আমার পক্ষ থেকে আপনি বহন করে নিন। আপনার হালাল দিয়ে আমাকে আপনার হারাম থেকে, আপনার আনুগত্য দিয়ে আপনার অবাধ্যতা থেকে এবং আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন, হে প্রশস্ত ক্ষমার অধিকারী! হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.38-42
8. ৭ম চক্করের দোয়া
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا كَامِلًا، وَيَقِينًا صَادِقًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَحَلَالًا طَيِّبًا، وَعِلْمًا نَافِعًا، وَقَلْبًا خَاشِعًا، وَلِسَانًا ذَاكِرًا، وَتَوْبَةً نَصُوحًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالْأَمَانَةَ، وَحُسْنَ الْخُلُقِ وَالرِّضَى بِالْقَدَرِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَتُوبَ عَلَيَّ، وَتَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي جَمِيعَ مَا مَضَى مِنْ ذَنْبِي، وَاعْصِمْنِي فِيمَا بَقِيَ مِنْ عُمْرِي، وَارْزُقْنِي عَمَلًا زَاكِيًا تَرْضَى بِهِ عَنِّي. اَللّٰهُمَّ لَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَلَا تَنْزِعْ مِنِّي صَالِحَ مَا أَعْطَيْتَنِي. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، وَأَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْأَبْرَارِ، يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! (আমি এই ইবাদত করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আর মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই পূর্ণ ঈমান, সত্য দৃঢ় বিশ্বাস, প্রশস্ত রিজিক, পবিত্র হালাল (জীবিকা), উপকারী জ্ঞান, বিনয়ী অন্তর, জিকিরকারী জিহ্বা এবং খাঁটি তাওবা। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা, পবিত্রতা, আমানতদারি, উত্তম চরিত্র এবং তাকদিরের উপর সন্তুষ্টি চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করার, মন্দ কাজ পরিত্যাগ করার ও মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফিক চাই, আর চাই আপনি আমার তাওবা কবুল করুন, আমাকে ক্ষমা করুন ও আমার প্রতি রহম করুন। হে আল্লাহ! আমার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার অবশিষ্ট জীবনে আমাকে হেফাজত করুন এবং আমাকে এমন পবিত্র আমল দান করুন যার দ্বারা আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। হে আল্লাহ! চোখের পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দেবেন না এবং আপনি আমাকে যে কল্যাণ দান করেছেন তা আমার থেকে ছিনিয়ে নেবেন না। হে আমাদের রব! হিসাবের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, হে মহাপরাক্রমশালী, হে মহাক্ষমাশীল, হে বিশ্বজগতের রব!
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.43-47
9. রুকনে ইয়ামানির দোয়া
رَبَّنَٓا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:201
10. মুলতাজেমের দোয়া
اَللّٰهُمَّ يَا رَبَّ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ، أَعْتِقْ رِقَابَنَا وَرِقَابَ آبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا وَإِخْوَانِنَا وَأَوْلَادِنَا مِنَ النَّارِ، يَا ذَا الْجُودِ وَالْكَرَمِ وَالْفَضْلِ وَالْمَنِّ وَالْعَطَاءِ وَالْإِحْسَانِ. اَللّٰهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الْأُمُورِ كُلِّهَا، وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْآخِرَةِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ، وَاقِفٌ تَحْتَ بَابِكَ، مُلْتَزِمٌ بِأَعْتَابِكَ يَا قَدِيمَ الْإِحْسَانِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تَرْفَعَ ذِكْرِي، وَتَضَعَ وِزْرِي، وَتَغْفِرَ لِي ذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ
হে আল্লাহ, হে প্রাচীন ঘরের (কাবার) রব! আমাদের, আমাদের পিতা, মাতা, ভাই ও সন্তানদের গর্দানকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করুন, হে দানশীলতা, মহানুভবতা, অনুগ্রহ, ইহসান, দান ও কল্যাণের মালিক! হে আল্লাহ! আমাদের সকল কাজের পরিণাম সুন্দর করুন এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার সন্তান ও আপনার বান্দির সন্তান; আপনার দরজার নিচে দাঁড়িয়ে আছি, আপনার চৌকাঠ আঁকড়ে ধরে আছি, হে চিরন্তন অনুগ্রহকারী! হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, আপনি আমার স্মরণকে উঁচু করুন, আমার বোঝা লাঘব করুন ও আমার গুনাহ ক্ষমা করুন; আর আমি আপনার কাছে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা চাই।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.55
11. মাকামে ইব্রাহিমের দোয়া
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ سِرِّي وَعَلَانِيَتِي فَاقْبَلْ مَعْذِرَتِي، وَتَعْلَمُ حَاجَتِي فَأَعْطِنِي سُؤْلِي، وَتَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي
হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানেন, আমার ওজর কবুল করুন। আপনি আমার প্রয়োজন জানেন, আমার আবেদন পূর্ণ করুন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Hz. Âdem’e nispet edilen dua — Taberânî, el-Mu‘cemü’l-Evsat (zayıf)
12. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (হাতীমে পড়া যায়)
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ
হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমতো আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার উপর আপনার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, কেননা আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 6306
13. জমজম পানের দোয়া
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ وَسَقَمٍ
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল রোগ ও ব্যাধি থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করি।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.58 — İbn Abbas’ın zemzem duası (mevkuf)
14. তাওয়াফ পরবর্তী দোয়া
اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ، وَلَكَ الْكَمَالُ كُلُّهُ، وَلَكَ الْجَلَالُ كُلُّهُ، وَلَكَ التَّقْدِيسُ كُلُّهُ. رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ، وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ، وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلْإِسْلَامِ أَنْ لَا تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ. رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ أَكْرَمِ وَفْدِكَ عَلَيْكَ، وَأَلْزِمْنِي سَبِيلَ الِاسْتِقَامَةِ حَتَّى أَلْقَاكَ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعِفَّةَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي. اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي. اَللّٰهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِيَ الَّتِي إِلَيْهَا مَعَادِي، وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ. اَللّٰهُمَّ لَا تَدَعْ لَنَا فِي مَقَامِنَا هٰذَا ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ، وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ، وَلَا كَرْبًا إِلَّا نَفَّسْتَهُ، وَلَا دَيْنًا إِلَّا قَضَيْتَهُ، وَلَا مَرِيضًا إِلَّا شَفَيْتَهُ، وَلَا مَيِّتًا إِلَّا رَحِمْتَهُ، وَلَا ضَالًّا إِلَّا هَدَيْتَهُ، وَلَا مُبْتَلًى إِلَّا عَافَيْتَهُ، وَلَا مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِكَ إِلَّا نَصَرْتَهُ، وَلَا عَدُوًّا لِلدِّينِ إِلَّا خَذَلْتَهُ، وَلَا حَاجَةً مِنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ هِيَ لَكَ رِضًا وَلَنَا فِيهَا صَلَاحٌ إِلَّا قَضَيْتَهَا وَيَسَّرْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ. اَللّٰهُمَّ يَسِّرْ أُمُورَنَا، وَاشْرَحْ صُدُورَنَا، وَنَوِّرْ قُلُوبَنَا، وَأَحْسِنْ خَوَاتِمَ أَعْمَالِنَا. اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو، فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ. رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا، وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا، وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ. اَللّٰهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ.
হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই, সমস্ত পূর্ণতা আপনারই, সমস্ত মহিমা আপনারই এবং সমস্ত পবিত্রতা আপনারই। হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আল্লাহ! আপনি বলেছেন: 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব', আর আপনি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, যেভাবে আপনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন, তেমনি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূর পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আমাকে আপনার সম্মানিত মেহমানদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আপনার সাথে সাক্ষাৎ পর্যন্ত আমাকে ইস্তিকামাতের পথে অবিচল রাখুন, হে সৃষ্টিকুলের রব! হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা, পবিত্রতা ও নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমার দোষত্রুটি ঢেকে রাখুন এবং আমার ভয়-ভীতি দূর করে নিরাপত্তা দিন; আমাকে হেফাজত করুন আমার সামনে, পেছনে, ডানে, বামে ও উপর থেকে, আর নিচ থেকে অতর্কিতে ধ্বংস হওয়া থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমার দ্বীনকে সংশোধন করে দিন, যা আমার সকল কাজের রক্ষাকবচ; আমার দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন, যাতে আমার জীবিকা; আমার আখিরাতকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমার প্রত্যাবর্তন; জীবনকে আমার জন্য সকল কল্যাণে বৃদ্ধির উপায় বানিয়ে দিন এবং মৃত্যুকে আমার জন্য সকল অনিষ্ট থেকে প্রশান্তি বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের এই স্থানে আমাদের কোনো গুনাহ রাখবেন না, যা আপনি ক্ষমা করেননি; কোনো দুশ্চিন্তা রাখবেন না, যা আপনি দূর করেননি; কোনো কষ্ট রাখবেন না, যা আপনি লাঘব করেননি; কোনো ঋণ রাখবেন না, যা আপনি পরিশোধ করেননি; কোনো রোগী রাখবেন না, যাকে আপনি আরোগ্য দেননি; কোনো মৃত রাখবেন না, যার প্রতি আপনি রহম করেননি; কোনো পথভ্রষ্ট রাখবেন না, যাকে আপনি হিদায়াত দেননি; কোনো বিপদগ্রস্ত রাখবেন না, যাকে আপনি নিরাপত্তা দেননি; আপনার পথে কোনো মুজাহিদ রাখবেন না, যাকে আপনি সাহায্য করেননি; দ্বীনের কোনো শত্রু রাখবেন না, যাকে আপনি লাঞ্ছিত করেননি; আর দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোনো প্রয়োজন রাখবেন না, যাতে আপনার সন্তুষ্টি ও আমাদের কল্যাণ রয়েছে, অথচ আপনি তা পূরণ ও সহজ করে দেননি, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু! হে আল্লাহ! আমাদের কাজগুলো সহজ করে দিন, আমাদের বক্ষ উন্মুক্ত করে দিন, আমাদের অন্তর আলোকিত করুন এবং আমাদের আমলের পরিসমাপ্তি সুন্দর করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনারই রহমতের আশা করি; সুতরাং চোখের পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দেবেন না, আর আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন; আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। হে আমাদের রব! হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা। হে আমাদের রব! আমাদের গুনাহ এবং আমাদের কাজে সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন, আমাদের পা দৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.48-49-50
সাঈর দোয়া
1. সাঈর নিয়ত
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ سَعْيَ الْعُمْرَةِ فَيَسِّرْهُ لِي وَتَقَبَّلْهُ مِنِّي
হে আল্লাহ! আমি উমরাহর সাঈর নিয়ত করছি; তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.8
2. ১ম চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. اَللّٰهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللّٰهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ، وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ. وَأَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً تُصْلِحُ بِهَا شَأْنِي فِي الدَّارَيْنِ، وَارْحَمْنِي رَحْمَةً أَسْعَدُ بِهَا فِي الدَّارَيْنِ، وَتُبْ عَلَيَّ تَوْبَةً نَصُوحًا لَا أَنْكُثُهَا أَبَدًا، وَأَلْزِمْنِي الِاسْتِقَامَةَ لَا أَزِيغُ عَنْهَا أَبَدًا. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, অতি মহান; আল্লাহর জন্য অজস্র প্রশংসা; আর সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান; তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ, এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ, সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সকল কল্যাণ চাই, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, যা আমি জানি এবং যা জানি না; আর সকল অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, যা আমি জানি এবং যা জানি না। আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ চাই, আর জাহান্নাম এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ আপনার কাছে যে কল্যাণ চেয়েছেন, আমিও তা চাই; আর আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ যে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন, আমিও তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমাকে এমন ক্ষমা দান করুন যার দ্বারা আপনি উভয় জগতে আমার অবস্থা সংশোধন করে দেবেন; আমার প্রতি এমন রহমত করুন যার দ্বারা আমি উভয় জগতে সৌভাগ্যবান হব; আমাকে এমন খাঁটি তাওবার তাওফিক দিন যা আমি কখনো ভঙ্গ করব না; এবং আমাকে এমন ইস্তিকামাতে অবিচল রাখুন যা থেকে আমি কখনো বিচ্যুত হব না। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমরা দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে কেবল তাঁরই ইবাদত করি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.60-66
3. ২য় চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الْفَرْدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ. رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ. رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا، رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ. رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ، وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ. اَللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي، اَللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اَللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ. اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِكَ اَللّٰهُمَّ مِنْ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا، وَإِذَا أَسَاؤُوا اسْتَغْفَرُوا. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি এক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী; যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদিগকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সকল গোনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দুর করে দাও, আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না। হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ এবং যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন, তা ক্ষমা করুন; আপনিই অগ্রবর্তীকারী এবং আপনিই পশ্চাদবর্তীকারী, আর আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান; আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমার দেহে সুস্থতা দিন; হে আল্লাহ! আমার শ্রবণশক্তিতে সুস্থতা দিন; হে আল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থতা দিন; আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমার দোষত্রুটি ঢেকে রাখুন এবং আমার ভয়-ভীতি দূর করে নিরাপত্তা দিন; আমাকে হেফাজত করুন আমার সামনে, পেছনে, ডানে, বামে ও উপর থেকে; আর হে আল্লাহ! নিচ থেকে অতর্কিতে ধ্বংস হওয়া থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা ভালো কাজ করলে আনন্দিত হয় এবং মন্দ কাজ করে ফেললে ক্ষমা প্রার্থনা করে। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান; তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ, এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.67-73
4. ৩য় চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الْفَرْدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ، وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا. اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ، وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً، إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ. رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي، رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ، أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ. رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا. اَللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي إِلَى حُبِّكَ. اَللّٰهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি এক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী; যিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো শরিক নেই এবং দুর্বলতার কারণে তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই; আর সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা কর। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ, সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া। হে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই যা আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে। হে আল্লাহ! ঈমানকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন এবং আমাদের অন্তরে তা সুশোভিত করে দিন, আর কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে আমাদের কাছে ঘৃণ্য করে দিন এবং আমাদের সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমতো আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার উপর আপনার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, কেননা আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.74-80
5. ৪র্থ চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِينُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللّٰهِ صَادِقُ الْوَعْدِ الْأَمِينُ. اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِي عَلَى سُنَّةِ نَبِيِّكَ، وَتَوَفَّنِي عَلَى مِلَّتِهِ، وَأَعِذْنِي مِنْ مُضِلَّاتِ الْفِتَنِ. سُبْحَانَكَ مَا عَبَدْنَاكَ حَقَّ عِبَادَتِكَ يَا اَللّٰهُ. سُبْحَانَكَ مَا ذَكَرْنَاكَ حَقَّ ذِكْرِكَ يَا اَللّٰهُ. سُبْحَانَكَ مَا شَكَرْنَاكَ حَقَّ شُكْرِكَ يَا اَللّٰهُ. سُبْحَانَكَ مَا أَعْلَى شَأْنَكَ يَا اَللّٰهُ. سُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ خَلْقِهِ. سُبْحَانَ اللّٰهِ رِضَا نَفْسِهِ. سُبْحَانَ اللّٰهِ زِنَةَ عَرْشِهِ. سُبْحَانَ اللّٰهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلْإِسْلَامِ أَنْ لَا تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي عَلَيْهِ وَأَنَا مُسْلِمٌ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي لِسَانِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَمِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، وَمِنْ أَمَامِي نُورًا، وَمِنْ خَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي فِي نَفْسِي نُورًا. اَللّٰهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَارْزُقْنِي عِلْمًا تَنْفَعُنِي بِهِ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي رِزْقِي، وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي. اَللّٰهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الْأُمُورِ كُلِّهَا، وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْآخِرَةِ. اَللّٰهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِي مِنَ النِّفَاقِ، وَعَمَلِي مِنَ الرِّيَاءِ، وَلِسَانِي مِنَ الْكَذِبِ، وَعَيْنِي مِنَ الْخِيَانَةِ، فَإِنَّكَ تَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ. اَللّٰهُمَّ ارْحَمْنِي بِتَرْكِ الْمَعَاصِي أَبَدًا مَا أَبْقَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي أَنْ أَتَكَلَّفَ مَا لَا يَعْنِينِي، وَارْزُقْنِي حُسْنَ النَّظَرِ فِيمَا يُرْضِيكَ عَنِّي. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি অধিপতি, সত্য ও সুস্পষ্ট; মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নবীর সুন্নাতের উপর জীবিত রাখুন, তাঁর মিল্লাতের উপর মৃত্যু দিন এবং পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আপনি পবিত্র! আপনার ইবাদতের যে হক, সেভাবে আমরা আপনার ইবাদত করতে পারিনি, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র! আপনার জিকিরের যে হক, সেভাবে আমরা আপনাকে স্মরণ করতে পারিনি, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র! আপনার শোকরের যে হক, সেভাবে আমরা আপনার শোকর করতে পারিনি, হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র! আপনার মর্যাদা কতই না উচ্চ, হে আল্লাহ! আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি তাঁর আরশের ওজনের সমান। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি তাঁর বাণীসমূহের কালির পরিমাণ। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, যেভাবে আপনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন, তেমনি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে এর উপর মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দিন, আমার জিহ্বায় নূর, আমার দৃষ্টিতে নূর এবং আমার শ্রবণে নূর; আমার ডানে নূর ও আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর ও আমার নিচে নূর, আমার সামনে নূর ও আমার পেছনে নূর; আর আমার সত্তার মধ্যে আমার জন্য নূর দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন, যা আমার উপকারে আসবে তা আমাকে শিক্ষা দিন এবং আমাকে এমন জ্ঞান দান করুন যার দ্বারা আপনি আমাকে উপকৃত করবেন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার রিজিক প্রশস্ত করুন এবং আপনি আমাকে যা রিজিক দিয়েছেন তাতে বরকত দিন। হে আল্লাহ! আমাদের সকল কাজের পরিণাম সুন্দর করুন এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে নিফাক থেকে, আমার আমলকে লোকদেখানো থেকে, আমার জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে এবং আমার চোখকে খিয়ানত থেকে পবিত্র করুন; কেননা চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় আপনি জানেন। হে আল্লাহ! যতদিন আপনি আমাকে জীবিত রাখবেন, গুনাহ বর্জনের (তাওফিক দিয়ে) আমার প্রতি রহম করুন; অনর্থক বিষয়ে জড়িয়ে পড়া থেকে (রক্ষা করে) আমার প্রতি রহম করুন; এবং যা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করে, তাতে আমাকে সুন্দর দৃষ্টি দান করুন। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.81-87
6. ৫ম চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْحَكِيمُ الْكَرِيمُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْبَدِيعُ الْعَلِيمُ، سُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ السَّمٰوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ، إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا. أَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ. وَاكْتُبْ لَنَا فِي هٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ، إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ. لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ. رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ. رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ. رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ، وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ، وَاجْعَلْنِي مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ، وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ، يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ، إِلَّا مَنْ أَتَى اللّٰهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ. رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ. رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا، وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا، وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي جَمِيعَ مَا أَسْلَفْتُهُ، وَاعْصِمْنِي فِيمَا بَقِيَ، وَارْزُقْنِي عَمَلًا صَالِحًا تَرْضَى بِهِ عَنِّي، يَا ذَا الْفَضْلِ الْعَظِيمِ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সুউচ্চ, মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি প্রজ্ঞাময়, মহানুভব; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি নব-উদ্ভাবক, সর্বজ্ঞ। পবিত্র আল্লাহ, সাত আসমানের রব এবং মহান আরশের রব। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আমার পালনকর্তা, আমাদের কাছথেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী। হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমাকে নেককারদের সাথে মিলিত করুন। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর, এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর, এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর, এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না, যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না; কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা। হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর। হে আল্লাহ! আমি অতীতে যা কিছু করেছি সব ক্ষমা করুন, বাকি (জীবনে) আমাকে হেফাজত করুন এবং আমাকে এমন নেক আমল দান করুন যার দ্বারা আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, হে মহা অনুগ্রহের অধিকারী! নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.88-95
7. ৬ষ্ঠ চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّكِّ وَالشِّرْكِ، وَالنِّفَاقِ وَالشِّقَاقِ، وَسُوءِ الْأَخْلَاقِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْإِثْمِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْغِنَى وَفِتْنَةِ الْفَقْرِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَمِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَمِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَالْقَسْوَةِ وَالْغَفْلَةِ، وَالذِّلَّةِ وَالْمَسْكَنَةِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ يَوْمِ السُّوءِ، وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوءِ، وَمِنْ سَاعَةِ السُّوءِ، وَمِنْ صَاحِبِ السُّوءِ، وَمِنْ جَارِ السُّوءِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। হে আল্লাহ! আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী, সবকিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি সন্দেহ ও শিরক থেকে, নিফাক ও বিরোধ থেকে এবং মন্দ চরিত্র থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি গুনাহ থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে এবং প্রাচুর্যের ফিতনা ও দারিদ্র্যের ফিতনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি বিপদের কঠোরতা থেকে, দুর্ভাগ্যের কবলে পড়া থেকে, মন্দ ফয়সালা থেকে এবং শত্রুদের উল্লাস থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিয়ামতের বিলুপ্তি, আপনার দেওয়া সুস্থতার পরিবর্তন, আপনার আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সকল অসন্তুষ্টি থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি গুনাহ ও ঋণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, অন্তরের কাঠিন্য ও উদাসীনতা থেকে এবং লাঞ্ছনা ও দীনতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি মন্দ দিন, মন্দ রাত, মন্দ মুহূর্ত, মন্দ সঙ্গী ও মন্দ প্রতিবেশী থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি জুলুম করা অথবা জুলুমের শিকার হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান; তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ, এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.96-101
8. ৭ম চক্কর
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ. اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ. رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، وَاعْفُ وَتَكَرَّمْ، وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا لَا نَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. اَللّٰهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ، إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ، إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ، فَلَكَ الْحَمْدُ عَلَى مَا قَضَيْتَ، نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوبُ إِلَيْكَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى، وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا، وَلِسَانًا صَادِقًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالْأَمَانَةَ، وَحُسْنَ الْخُلُقِ وَالرِّضَى بِالْقَدَرِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَتُوبَ عَلَيَّ، وَتَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي. اَللّٰهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ أَنْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ. رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ، وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ، وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ. رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ. إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি মহান, সহনশীল; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রব; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সম্মানিত আরশের রব। হে আল্লাহ! আপনি যা দেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দেওয়ার কেউ নেই; এবং আপনার কাছে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কোনো উপকারে আসে না। হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, মাফ করুন ও অনুগ্রহ করুন, এবং আপনি যা জানেন তা উপেক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক পরাক্রমশালী, সর্বাধিক মহানুভব। হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! আপনি যাদের হিদায়াত দিয়েছেন, তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত দিন; যাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন, তাদের সাথে আমাকেও নিরাপত্তা দিন; যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের সাথে আমারও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন; আপনি যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন এবং আপনি যা ফয়সালা করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন; নিশ্চয়ই আপনিই ফয়সালা করেন, আপনার উপর কেউ ফয়সালা করতে পারে না। নিশ্চয়ই আপনি যার বন্ধু হন সে কখনো লাঞ্ছিত হয় না, আর আপনি যার শত্রু হন সে কখনো সম্মানিত হয় না। হে আমাদের রব! আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আপনার সকল ফয়সালার জন্য আপনারই প্রশংসা; আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকে তাওবা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে বিশুদ্ধ অন্তর ও সত্যবাদী জিহ্বা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা, পবিত্রতা, আমানতদারি, উত্তম চরিত্র এবং তাকদিরের উপর সন্তুষ্টি চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করার, মন্দ কাজ পরিত্যাগ করার ও মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফিক চাই, আর চাই আপনি আমার তাওবা কবুল করুন, আমাকে ক্ষমা করুন ও আমার প্রতি রহম করুন। হে আল্লাহ! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন, হিদায়াত দেওয়ার পর আমার অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা। হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর। হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.102-108
9. সাঈর পর মারওয়ায় দোয়া
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ. اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ: «اُدْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ»، وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ، وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلْإِسْلَامِ أَنْ لَا تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ. اَللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي. اَللّٰهُمَّ قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ. اَللّٰهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا. اَللّٰهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى، وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى. اَللّٰهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا، فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ، وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ، رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ، وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ. وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ، وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ. اَللّٰهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلَامِ، وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَجَنِّبْنَا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ. اَللّٰهُمَّ ابْسُطْ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَتُبْ عَلَيْنَا، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। হে আল্লাহ! আপনি বলেছেন: "তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব", আর আপনি ওয়াদা খেলাফ করেন না। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, যেভাবে আপনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন, তেমনি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তাতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন, তাতে বরকত দিন এবং আমার প্রত্যেক হারানো জিনিসের বদলে উত্তম কিছু দান করুন। হে আল্লাহ! আমার নফসকে তার তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পবিত্র করুন, আপনিই তাকে সর্বোত্তম পবিত্রকারী; আপনিই তার অভিভাবক ও মালিক। হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই আপনার রহমত অবধারিতকারী বিষয়সমূহ ও আপনার ক্ষমা নিশ্চিতকারী আমল, সকল গুনাহ থেকে নিরাপত্তা, জান্নাত লাভের সাফল্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা চাই। হে আল্লাহ! আপনার জিকির, আপনার শোকর ও উত্তমরূপে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সকল কল্যাণ চাই, যা আমি জানি এবং যা জানি না; আর সকল অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই, যা আমি জানি এবং যা জানি না। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ চাই, আর জাহান্নাম এবং তার নিকটবর্তীকারী প্রতিটি কথা ও কাজ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ এবং যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন, তা ক্ষমা করুন; আপনিই অগ্রবর্তীকারী এবং আপনিই পশ্চাদবর্তীকারী, আর আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করুন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করুন, আমাদের শান্তির পথ দেখান, আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে মুক্তি দিন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতা থেকে আমাদের দূরে রাখুন। হে আল্লাহ! আমাদের উপর আপনার বরকত, আপনার রহমত, আপনার অনুগ্রহ ও আপনার রিজিক প্রসারিত করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Diyanet, Hajj and Umrah Duas (2026) p.109-116
নামাজের দোয়া
1. সুবহানাকা
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ
হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আমরা আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি; আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সমুচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
সূত্র: হাদিস — Abu Dawud 775; Tirmidhi 242
2. সূরা আল-ফাতিহা
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحٖيمِ ١ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمٖينَۙ ٢ اَلرَّحْمٰنِ الرَّحٖيمِۙ ٣ مَالِكِ يَوْمِ الدّٖينِۜ ٤ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَاِيَّاكَ نَسْتَعٖينُۜ ٥ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقٖيمَۙ ٦ صِرَاطَ الَّذٖينَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْۙ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّٓالّٖينَ ٧
(1) শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (2) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। (3) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। (4) যিনি বিচার দিনের মালিক। (5) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (6) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, (7) সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
সূত্র: আল-কুরআন — 1:1-7
3. তাশাহহুদ
اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
সমস্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 6265
4. দরূদ ইব্রাহিম
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 3370
5. দোয়া কুনুত
اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنَسْتَهْدِيكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتُوبُ اِلَيْكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ نَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ. اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
হে আল্লাহ! আমরা আপনারই কাছে সাহায্য চাই, আপনারই কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনারই কাছে হিদায়াত চাই। আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনি, আপনার কাছে তাওবা করি এবং আপনার উপরই ভরসা করি। আমরা সর্বপ্রকার কল্যাণসহ আপনার প্রশংসা করি, আপনার শুকরিয়া আদায় করি এবং আপনার নাশুকরি করি না; যে আপনার অবাধ্য হয় আমরা তাকে পরিত্যাগ করি ও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি, আপনারই জন্য সালাত আদায় করি ও সিজদা করি, আপনারই দিকে ধাবিত হই এবং আপনার আনুগত্যে তৎপর থাকি। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার আযাবকে ভয় করি; নিশ্চয়ই আপনার আযাব কাফিরদের উপর আপতিত হবে।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Hanefî kunut duası (Diyanet)
6. রব্বানা আতিনা
رَبَّنَٓا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّـنَا اغْفِرْ لٖي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنٖينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُࣖ
হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:201 · 14:41
7. আয়াতুল কুরসি
اَللّٰهُ لَٓا اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَىُّ الْقَيُّومُۚ لَا تَاْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌۜ لَهُ مَا فِى السَّمٰوَاتِ وَمَا فِى الْاَرْضِۜ مَنْ ذَا الَّذٖى يَشْفَعُ عِنْدَهُٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖۜ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدٖيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۚ وَلَا يُحٖيطُونَ بِشَىْءٍ مِنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَٓاءَۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوَاتِ وَالْاَرْضَۚ وَلَا يَؤُ۫دُهُ حِفْظُهُمَاۚ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظٖيمُ ٢٥٥
(255) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:255
8. আমানার রাসূল
اٰمَنَ الرَّسُولُ بِمَٓا اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُونَؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖؕ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِنْ رُسُلِهٖࣞ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصٖيرُ ٢٨٥ لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۜ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْۜ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَٓا اِنْ نَسٖينَٓا اَوْ اَخْطَاْنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَٓا اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذٖينَ مِنْ قَبْلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖۚ وَاعْفُ عَنَّا۠ وَاغْفِرْ لَنَا۠ وَارْحَمْنَا۠ اَنْتَ مَوْلٰينَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرٖينَ ٢٨٦
(285) রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (286) আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:285-286
9. সূরা আল-ফজর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْفَجْرِۙ ١ وَلَيَالٍ عَشْرٍۙ ٢ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِۙ ٣ وَالَّيْلِ اِذَا يَسْرِۚ ٤ هَلْ فٖي ذٰلِكَ قَسَمٌ لِذٖي حِجْرٍؕ ٥ اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍۙۖ ٦ اِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِۙۖ ٧ اَلَّتٖي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِۙۖ ٨ وَثَمُودَ الَّذٖينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِۙۖ ٩ وَفِرْعَوْنَ ذِي الْاَوْتَادِۙۖ ١٠ اَلَّذٖينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِۙۖ ١١ فَاَكْثَرُوا فٖيهَا الْفَسَادَۙۖ ١٢ فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍۙۖ ١٣ اِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِؕ ١٤ فَاَمَّا الْاِنْسَانُ اِذَا مَا ابْتَلٰيهُ رَبُّهُ فَاَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبّٖٓي اَكْرَمَنِؕ ١٥ وَاَمَّٓا اِذَا مَا ابْتَلٰيهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبّٖٓي اَهَانَنِۚ ١٦ كَلَّا بَلْ لَا تُكْرِمُونَ الْيَتٖيمَۙ ١٧ وَلَا تَحَٓاضُّونَ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكٖينِۙ ١٨ وَتَاْكُلُونَ التُّرَاثَ اَكْلًا لَمًّاۙ ١٩ وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّاۜ ٢٠ كَلَّٓا اِذَا دُكَّتِ الْاَرْضُ دَكًّا دَكًّاۙ ٢١ وَجَٓاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّاۚ ٢٢ وَجٖٓيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْاِنْسَانُ وَاَنّٰى لَهُ الذِّكْرٰىؕ ٢٣ يَقُولُ يَا لَيْتَنٖي قَدَّمْتُ لِحَيَاتٖيۚ ٢٤ فَيَوْمَئِذٍ لَا يُعَذِّبُ عَذَابَهُٓ اَحَدٌۙ ٢٥ وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُٓ اَحَدٌؕ ٢٦ يَٓا اَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُࣗ ٢٧ اِرْجِعٖٓي اِلٰى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةًۚ ٢٨ فَادْخُلٖي فٖي عِبَادٖيۙ ٢٩ وَادْخُلٖي جَنَّتٖي ٣٠
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ ফজরের, (2) শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, (3) যা জোড় ও যা বিজোড় (4) এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে (5) এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে। (6) আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন, (7) যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং (8) যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি (9) এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল। (10) এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে (11) যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। (12) অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। (13) অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন। (14) নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (15) মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। (16) এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। (17) এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না। (18) এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না। (19) এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল (20) এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস। (21) এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে (22) এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন, (23) এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? (24) সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম! (25) সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না। (26) এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না। (27) হে প্রশান্ত মন, (28) তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। (29) অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। (30) এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 89:1-30
10. সূরা আশ-শামস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالشَّمْسِ وَضُحٰيهَاۙۖ ١ وَالْقَمَرِ اِذَا تَلٰيهَاۙۖ ٢ وَالنَّهَارِ اِذَا جَلّٰيهَاۙۖ ٣ وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰيهَاۙۖ ٤ وَالسَّمَٓاءِ وَمَا بَنٰيهَاۙۖ ٥ وَالْاَرْضِ وَمَا طَحٰيهَاۙۖ ٦ وَنَفْسٍ وَمَا سَوّٰيهَاۙۖ ٧ فَاَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوٰيهَاۙۖ ٨ قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكّٰيهَاۙۖ ٩ وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰيهَاؕ ١٠ كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوٰيهَاۙۖ ١١ اِذِ انْبَعَثَ اَشْقٰيهَاۙۖ ١٢ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللّٰهِ نَاقَةَ اللّٰهِ وَسُقْيٰيهَاࣞ ١٣ فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَاۙۖ فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُمْ بِذَنْبِهِمْ فَسَوّٰيهَاۙۖ ١٤ وَلَا يَخَافُ عُقْبٰيهَا ١٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ সূর্যের ও তার কিরণের, (2) শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে, (3) শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে, (4) শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে, (5) শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর। (6) শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর, (7) শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, (8) অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, (9) যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। (10) এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। (11) সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ মিথ্যারোপ করেছিল। (12) যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল। (13) অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক। (14) অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন। (15) আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।
সূত্র: আল-কুরআন — 91:1-15
11. সূরা আল-লাইল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰىۙ ١ وَالنَّهَارِ اِذَا تَجَلّٰىۙ ٢ وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰىۙ ٣ اِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتّٰىؕ ٤ فَاَمَّا مَنْ اَعْطٰى وَاتَّقٰىۙ ٥ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنٰىۙ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرٰىؕ ٧ وَاَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنٰىۙ ٨ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنٰىۙ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرٰىؕ ١٠ وَمَا يُغْنٖي عَنْهُ مَالُـهُٓ اِذَا تَرَدّٰىؕ ١١ اِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدٰىؗ ١٢ وَاِنَّ لَنَا لَلْاٰخِرَةَ وَالْاُو۫لٰى ١٣ فَاَنْذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظّٰىۚ ١٤ لَا يَصْلٰيهَٓا اِلَّا الْاَشْقٰىۙ ١٥ اَلَّذٖي كَذَّبَ وَتَوَلّٰىؕ ١٦ وَسَيُجَنَّبُهَا الْاَتْقٰىۙ ١٧ اَلَّذٖي يُؤْتٖي مَالَهُ يَتَزَكّٰىۚ ١٨ وَمَا لِاَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِعْمَةٍ تُجْزٰىۙ ١٩ اِلَّا ابْتِغَٓاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْاَعْلٰىۚ ٢٠ وَلَسَوْفَ يَرْضٰى ٢١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে, (2) শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয় (3) এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন, (4) নিশ্চয় তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের। (5) অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, (6) এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, (7) আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব। (8) আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় (9) এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, (10) আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব। (11) যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে না। (12) আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা। (13) আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের। (14) অতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। (15) এতে নিতান্ত হতভাগ্য ব্যক্তিই প্রবেশ করবে, (16) যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (17) এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে, (18) যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে। (19) এবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না। (20) তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত। (21) সে সত্বরই সন্তুষ্টি লাভ করবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 92:1-21
12. সূরা আদ-দুহা
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالضُّحٰىۙ ١ وَالَّيْلِ اِذَا سَجٰىۙ ٢ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلٰىؕ ٣ وَلَلْاٰخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْاُو۫لٰىؕ ٤ وَلَسَوْفَ يُعْطٖيكَ رَبُّكَ فَتَـرْضٰىؕ ٥ اَلَمْ يَجِدْكَ يَتٖيمًا فَاٰوٰىۖ ٦ وَوَجَدَكَ ضَٓالًّا فَهَدٰىۖ ٧ وَوَجَدَكَ عَٓائِلًا فَاَغْنٰىۜ ٨ فَاَمَّا الْيَتٖيمَ فَلَا تَقْهَرْؕ ٩ وَاَمَّا السَّٓائِلَ فَلَا تَنْهَرْؕ ١٠ وَاَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ পূর্বাহ্নের, (2) শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়, (3) আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেনি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি। (4) আপনার জন্যে পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়। (5) আপনার পালনকর্তা সত্বরই আপনাকে দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন। (6) তিনি কি আপনাকে এতীমরূপে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। (7) তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। (8) তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন। (9) সুতরাং আপনি এতীমের প্রতি কঠোর হবেন না; (10) সওয়ালকারীকে ধমক দেবেন না। (11) এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 93:1-11
13. সূরা আশ-শারহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَۙ ١ وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَۙ ٢ اَلَّـذٖٓي اَنْقَضَ ظَهْرَكَۙ ٣ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَؕ ٤ فَاِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاۙ ٥ اِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاۜ ٦ فَاِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْۙ ٧ وَاِلٰى رَبِّكَ فَارْغَبْ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি? (2) আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা, (3) যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ। (4) আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি। (5-6) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (7) অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন। (8) এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 94:1-8
14. সূরা আত-তীন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالتّٖينِ وَالزَّيْتُونِۙ ١ وَطُورِ سٖينٖينَۙ ٢ وَهٰذَا الْبَلَدِ الْاَمٖينِۙ ٣ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ فٖٓي اَحْسَنِ تَقْوٖيمٍؗ ٤ ثُمَّ رَدَدْنَاهُ اَسْفَلَ سَافِلٖينَۙ ٥ اِلَّا الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ اَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍؕ ٦ فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدّٖينِؕ ٧ اَلَيْسَ اللّٰهُ بِاَحْكَمِ الْحَاكِمٖينَ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের, (2) এবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের, (3) এবং এই নিরাপদ নগরীর। (4) আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। (5) অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে। (6) কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার। (7) অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে? (8) আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?
সূত্র: আল-কুরআন — 95:1-8
15. সূরা আল-আলাক
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذٖى خَلَقَۚ ١ خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍۚ ٢ اِقْرَاْ وَرَبُّكَ الْاَكْرَمُۙ ٣ اَلَّذٖي عَلَّمَ بِالْقَلَمِۙ ٤ عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْؕ ٥ كَلَّٓا اِنَّ الْاِنْسَانَ لَيَطْغٰىۙ ٦ اَنْ رَاٰهُ اسْتَغْنٰىؕ ٧ اِنَّ اِلٰى رَبِّكَ الرُّجْعٰىؕ ٨ اَرَاَيْتَ الَّذٖي يَنْهٰىۙ ٩ عَبْدًا اِذَا صَلّٰىۜ ١٠ اَرَاَيْتَ اِنْ كَانَ عَلَى الْهُدٰىۙ ١١ اَوْ اَمَرَ بِالتَّقْوٰىؕ ١٢ اَرَاَيْتَ اِنْ كَذَّبَ وَتَوَلّٰىؕ ١٣ اَلَمْ يَعْلَمْ بِاَنَّ اللّٰهَ يَرٰىؕ ١٤ كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ۬ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِۙ ١٥ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍۚ ١٦ فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۙ ١٧ سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَۙ ١٨ كَلَّاؕ لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ ١٩
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (2) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। (3) পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, (4) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, (5) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (6) সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে, (7) এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। (8) নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে। (9) আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে (10) এক বান্দাকে যখন সে নামায পড়ে? (11) আপনি কি দেখেছেন যদি সে সৎপথে থাকে। (12) অথবা খোদাভীতি শিক্ষা দেয়। (13) আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (14) সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? (15) কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- (16) মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। (17) অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক। (18) আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে (19) কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 96:1-19
16. সূরা আল-কদর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِنَّٓا اَنْزَلْنَاهُ فٖي لَيْلَةِ الْقَدْرِۚ ١ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِؕ ٢ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ اَلْفِ شَهْرٍؕ ٣ تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوحُ فٖيهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْۚ مِنْ كُلِّ اَمْرٍۙۛ ٤ سَلَامٌࣞۛ هِيَ حَتّٰى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে। (2) শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? (3) শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (4) এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (5) এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
সূত্র: আল-কুরআন — 97:1-5
17. সূরা আল-বাইয়্যিনাহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ لَمْ يَكُنِ الَّذٖينَ كَفَرُوا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكٖينَ مُنْفَكّٖينَ حَتّٰى تَاْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُۙ ١ رَسُولٌ مِنَ اللّٰهِ يَتْلُوا صُحُفًا مُطَهَّرَةًۙ ٢ فٖيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌؕ ٣ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذٖينَ اُو۫تُوا الْكِتَابَ اِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَٓاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُؕ ٤ وَمَٓا اُمِرُٓوا اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصٖينَ لَهُ الدّٖينَ حُنَفَٓاءَ وَيُقٖيمُوا الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكٰوةَ وَذٰلِكَ دٖينُ الْقَيِّمَةِؕ ٥ اِنَّ الَّذٖينَ كَفَرُوا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكٖينَ فٖي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدٖينَ فٖيهَاؕ اُو۬لٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِؕ ٦ اِنَّ الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِۙ اُو۬لٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِؕ ٧ جَزَٓاؤُ۬هُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرٖى مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدٖينَ فٖيهَٓا اَبَدًاۜ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُۜ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত। (2) অর্থাৎ আল্লাহর একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা, (3) যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু। (4) অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই। (5) তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। (6) আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। (7) যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা। (8) তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 98:1-8
18. সূরা আয-যিলযাল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِذَا زُلْزِلَتِ الْاَرْضُ زِلْزَالَهَاۙ ١ وَاَخْرَجَتِ الْاَرْضُ اَثْقَالَهَاۙ ٢ وَقَالَ الْاِنْسَانُ مَا لَهَاۚ ٣ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخْبَارَهَاۙ ٤ بِاَنَّ رَبَّكَ اَوْحٰى لَهَاؕ ٥ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ اَشْتَاتًا لِيُرَوْا اَعْمَالَهُمْۜ ٦ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُۜ ٧ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, (2) যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। (3) এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? (4) সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, (5) কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। (6) সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। (7) অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে (8) এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 99:1-8
19. সূরা আল-আদিয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًاۙ ١ فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًاۙ ٢ فَالْمُغٖيرَاتِ صُبْحًاۙ ٣ فَاَثَرْنَ بِهٖ نَقْعًاۙ ٤ فَوَسَطْنَ بِهٖ جَمْعًاۙ ٥ اِنَّ الْاِنْسَانَ لِرَبِّهٖ لَكَنُودٌۚ ٦ وَاِنَّهُ عَلٰى ذٰلِكَ لَشَهٖيدٌۚ ٧ وَاِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدٖيدٌؕ ٨ اَفَلَا يَعْلَمُ اِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِۙ ٩ وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِۙ ١٠ اِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبٖيرٌ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ উর্ধ্বশ্বাসে চলমান অশ্বসমূহের, (2) অতঃপর ক্ষুরাঘাতে অগ্নিবিচ্ছুরক অশ্বসমূহের (3) অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্বসমূহের (4) ও যারা সে সময়ে ধুলি উৎক্ষিপ্ত করে (5) অতঃপর যারা শক্রদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে- (6) নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। (7) এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত (8) এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত। (9) সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে (10) এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে? (11) সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।
সূত্র: আল-কুরআন — 100:1-11
20. সূরা আল-কারিয়াহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلْقَارِعَةُۙ ١ مَا الْقَارِعَةُۚ ٢ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا الْقَارِعَةُۜ ٣ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِۙ ٤ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِۜ ٥ فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازٖينُهُۙ ٦ فَهُوَ فٖي عٖيشَةٍ رَاضِيَةٍؕ ٧ وَاَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازٖينُهُۙ ٨ فَاُمُّهُ هَاوِيَةٌؕ ٩ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا هِيَهْؕ ١٠ نَارٌ حَامِيَةٌ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) করাঘাতকারী, (2) করাঘাতকারী কি? (3) করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? (4) যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত (5) এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। (6) অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, (7) সে সুখীজীবন যাপন করবে। (8) আর যার পাল্লা হালকা হবে, (9) তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। (10) আপনি জানেন তা কি? (11) প্রজ্জ্বলিত অগ্নি!
সূত্র: আল-কুরআন — 101:1-11
21. সূরা আত-তাকাসুর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلْهٰيكُمُ التَّكَاثُرُۙ ١ حَتّٰى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَؕ ٢ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَۙ ٣ ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَؕ ٤ كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقٖينِؕ ٥ لَتَرَوُنَّ الْجَحٖيمَۙ ٦ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقٖينِۙ ٧ ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعٖيمِ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে, (2) এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। (3) এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। (4) অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। (5) কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। (6) তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, (7) অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, (8) এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 102:1-8
22. সূরা আল-আসর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْعَصْرِۙ ١ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفٖي خُسْرٍۙ ٢ اِلَّا الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) কসম যুগের (সময়ের), (2) নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; (3) কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।
সূত্র: আল-কুরআন — 103:1-3
23. সূরা আল-হুমাযাহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍۙ ١ اَلَّذٖى جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُۙ ٢ يَحْسَبُ اَنَّ مَالَـهُٓ اَخْلَدَهُۚ ٣ كَلَّا لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِؗ ٤ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا الْحُطَمَةُؕ ٥ نَارُ اللّٰهِ الْمُوقَدَةُۙ ٦ اَلَّتٖي تَطَّلِعُ عَلَى الْاَفْـِٔدَةِؕ ٧ اِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُؤْصَدَةٌۙ ٨ فٖي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ ٩
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, (2) যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে (3) সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে! (4) কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। (5) আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? (6) এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, (7) যা হৃদয় পর্যন্ত পৌছবে। (8) এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে, (9) লম্বা লম্বা খুঁটিতে।
সূত্র: আল-কুরআন — 104:1-9
24. সূরা আল-ফীল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفٖيلِؕ ١ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فٖي تَضْلٖيلٍۙ ٢ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابٖيلَۙ ٣ تَرْمٖيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجّٖيلٍۙۖ ٤ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَاْكُولٍ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? (2) তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? (3) তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, (4) যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। (5) অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
সূত্র: আল-কুরআন — 105:1-5
25. সূরা কুরাইশ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ لِاٖيلَافِ قُرَيْشٍۙ ١ اٖيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَٓاءِ وَالصَّيْفِۚ ٢ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِۙ ٣ اَلَّذٖٓى اَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَاٰمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ ٤
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) কোরাইশের আসক্তির কারণে, (2) আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। (3) অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার (4) যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।
সূত্র: আল-কুরআন — 106:1-4
26. সূরা আল-মাউন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَرَاَيْتَ الَّذٖى يُكَذِّبُ بِالدّٖينِۜ ١ فَذٰلِكَ الَّذٖى يَدُعُّ الْيَتٖيمَۙ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكٖينِۜ ٣ فَوَيْلٌ لِلْمُصَلّٖينَۙ ٤ اَلَّذٖينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَۙ ٥ اَلَّذٖينَ هُمْ يُرَٓاؤُ۫نَۙ ٦ وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ ٧
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে? (2) সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয় (3) এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না। (4) অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, (5) যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; (6) যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে (7) এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।
সূত্র: আল-কুরআন — 107:1-7
27. সূরা আল-কাওসার
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِنَّٓا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَۜ ١ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْۜ ٢ اِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْاَبْتَرُ ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। (2) অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। (3) যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।
সূত্র: আল-কুরআন — 108:1-3
28. সূরা আল-কাফিরুন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ يَٓا اَيُّهَا الْكَافِرُونَۙ ١ لَٓا اَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَۙ ٢ وَلَٓا اَنْتُمْ عَابِدُونَ مَٓا اَعْبُدُۚ ٣ وَلَٓا اَنَا۬ عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْۙ ٤ وَلَٓا اَنْتُمْ عَابِدُونَ مَٓا اَعْبُدُۜ ٥ لَكُمْ دٖينُكُمْ وَلِىَ دٖينِ ٦
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, হে কাফেরকূল, (2) আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। (3) এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি (4) এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। (5) তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। (6) তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।
সূত্র: আল-কুরআন — 109:1-6
29. সূরা আন-নাসর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِذَا جَٓاءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُۙ ١ وَرَاَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فٖى دٖينِ اللّٰهِ اَفْوَاجًاۙ ٢ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُۜ اِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় (2) এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, (3) তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।
সূত্র: আল-কুরআন — 110:1-3
30. সূরা আল-মাসাদ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ تَبَّتْ يَدَٓا اَبٖى لَهَبٍ وَتَبَّۜ ١ مَٓا اَغْنٰى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَۜ ٢ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍۚ ٣ وَامْرَاَتُهُۜ حَمَّالَةَ الْحَطَبِۚ ٤ فٖى جٖيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, (2) কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। (3) সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে (4) এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, (5) তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।
সূত্র: আল-কুরআন — 111:1-5
31. সূরা আল-ইখলাস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌۚ ١ اَللّٰهُ الصَّمَدُۚ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْۙ ٣ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا اَحَدٌ ٤
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, (2) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, (3) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি (4) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
সূত্র: আল-কুরআন — 112:1-4
32. সূরা আল-ফালাক
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِۙ ١ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَۙ ٢ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ ٣ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِى الْعُقَدِۙ ٤ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, (2) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, (3) অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, (4) গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে (5) এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
সূত্র: আল-কুরআন — 113:1-5
33. সূরা আন-নাস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ ١ مَلِكِ النَّاسِۙ ٢ اِلٰهِ النَّاسِۙ ٣ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِۙ ٤ اَلَّذٖى يُوَسْوِسُ فٖى صُدُورِ النَّاسِۙ ٥ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ٦
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, (2) মানুষের অধিপতির, (3) মানুষের মা’বুদের (4) তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, (5) যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে (6) জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
সূত্র: আল-কুরআন — 114:1-6
🤲 এই দোয়াগুলো পড়ার সময় অনুগ্রহ করে আমাদের, এই কাজে যারা অবদান রেখেছেন তাদের এবং সকল মুমিনকে আপনার দোয়ায় স্মরণ করুন। আল্লাহ আপনার ইবাদত ও দোয়া কবুল করুন।
ধাপে ধাপে উমরাহ · adimadimumre.com · Google Play · App Store