- প্রথম পাতা
- দোয়া
- নামাজের দোয়া
- প্রিন্টযোগ্য সংস্করণ (PDF)
নামাজের দোয়া
নামাজের সূরা ও দোয়া
1. সুবহানাকা
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ
হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আমরা আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি; আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সমুচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
সূত্র: হাদিস — Abu Dawud 775; Tirmidhi 242
2. সূরা আল-ফাতিহা
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحٖيمِ ١ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمٖينَۙ ٢ اَلرَّحْمٰنِ الرَّحٖيمِۙ ٣ مَالِكِ يَوْمِ الدّٖينِۜ ٤ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَاِيَّاكَ نَسْتَعٖينُۜ ٥ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقٖيمَۙ ٦ صِرَاطَ الَّذٖينَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْۙ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّٓالّٖينَ ٧
(1) শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (2) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। (3) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। (4) যিনি বিচার দিনের মালিক। (5) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (6) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, (7) সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
সূত্র: আল-কুরআন — 1:1-7
3. তাশাহহুদ
اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
সমস্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 6265
4. দরূদ ইব্রাহিম
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও ইবরাহীমের পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
সূত্র: হাদিস — Bukhari 3370
5. দোয়া কুনুত
اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنَسْتَهْدِيكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتُوبُ اِلَيْكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ نَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ. اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
হে আল্লাহ! আমরা আপনারই কাছে সাহায্য চাই, আপনারই কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনারই কাছে হিদায়াত চাই। আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনি, আপনার কাছে তাওবা করি এবং আপনার উপরই ভরসা করি। আমরা সর্বপ্রকার কল্যাণসহ আপনার প্রশংসা করি, আপনার শুকরিয়া আদায় করি এবং আপনার নাশুকরি করি না; যে আপনার অবাধ্য হয় আমরা তাকে পরিত্যাগ করি ও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি, আপনারই জন্য সালাত আদায় করি ও সিজদা করি, আপনারই দিকে ধাবিত হই এবং আপনার আনুগত্যে তৎপর থাকি। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার আযাবকে ভয় করি; নিশ্চয়ই আপনার আযাব কাফিরদের উপর আপতিত হবে।
সূত্র: উমরাহর প্রচলিত দোয়া — Hanefî kunut duası (Diyanet)
6. রব্বানা আতিনা
رَبَّنَٓا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّـنَا اغْفِرْ لٖي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنٖينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُࣖ
হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:201 · 14:41
7. আয়াতুল কুরসি
اَللّٰهُ لَٓا اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَىُّ الْقَيُّومُۚ لَا تَاْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌۜ لَهُ مَا فِى السَّمٰوَاتِ وَمَا فِى الْاَرْضِۜ مَنْ ذَا الَّذٖى يَشْفَعُ عِنْدَهُٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖۜ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدٖيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۚ وَلَا يُحٖيطُونَ بِشَىْءٍ مِنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَٓاءَۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوَاتِ وَالْاَرْضَۚ وَلَا يَؤُ۫دُهُ حِفْظُهُمَاۚ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظٖيمُ ٢٥٥
(255) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:255
8. আমানার রাসূল
اٰمَنَ الرَّسُولُ بِمَٓا اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُونَؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖؕ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِنْ رُسُلِهٖࣞ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصٖيرُ ٢٨٥ لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۜ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْۜ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَٓا اِنْ نَسٖينَٓا اَوْ اَخْطَاْنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَٓا اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذٖينَ مِنْ قَبْلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖۚ وَاعْفُ عَنَّا۠ وَاغْفِرْ لَنَا۠ وَارْحَمْنَا۠ اَنْتَ مَوْلٰينَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرٖينَ ٢٨٦
(285) রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (286) আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 2:285-286
9. সূরা আল-ফজর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْفَجْرِۙ ١ وَلَيَالٍ عَشْرٍۙ ٢ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِۙ ٣ وَالَّيْلِ اِذَا يَسْرِۚ ٤ هَلْ فٖي ذٰلِكَ قَسَمٌ لِذٖي حِجْرٍؕ ٥ اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍۙۖ ٦ اِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِۙۖ ٧ اَلَّتٖي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِۙۖ ٨ وَثَمُودَ الَّذٖينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِۙۖ ٩ وَفِرْعَوْنَ ذِي الْاَوْتَادِۙۖ ١٠ اَلَّذٖينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِۙۖ ١١ فَاَكْثَرُوا فٖيهَا الْفَسَادَۙۖ ١٢ فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍۙۖ ١٣ اِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِؕ ١٤ فَاَمَّا الْاِنْسَانُ اِذَا مَا ابْتَلٰيهُ رَبُّهُ فَاَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبّٖٓي اَكْرَمَنِؕ ١٥ وَاَمَّٓا اِذَا مَا ابْتَلٰيهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبّٖٓي اَهَانَنِۚ ١٦ كَلَّا بَلْ لَا تُكْرِمُونَ الْيَتٖيمَۙ ١٧ وَلَا تَحَٓاضُّونَ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكٖينِۙ ١٨ وَتَاْكُلُونَ التُّرَاثَ اَكْلًا لَمًّاۙ ١٩ وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّاۜ ٢٠ كَلَّٓا اِذَا دُكَّتِ الْاَرْضُ دَكًّا دَكًّاۙ ٢١ وَجَٓاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّاۚ ٢٢ وَجٖٓيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْاِنْسَانُ وَاَنّٰى لَهُ الذِّكْرٰىؕ ٢٣ يَقُولُ يَا لَيْتَنٖي قَدَّمْتُ لِحَيَاتٖيۚ ٢٤ فَيَوْمَئِذٍ لَا يُعَذِّبُ عَذَابَهُٓ اَحَدٌۙ ٢٥ وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُٓ اَحَدٌؕ ٢٦ يَٓا اَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُࣗ ٢٧ اِرْجِعٖٓي اِلٰى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةًۚ ٢٨ فَادْخُلٖي فٖي عِبَادٖيۙ ٢٩ وَادْخُلٖي جَنَّتٖي ٣٠
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ ফজরের, (2) শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, (3) যা জোড় ও যা বিজোড় (4) এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে (5) এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে। (6) আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন, (7) যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং (8) যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি (9) এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল। (10) এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে (11) যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। (12) অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। (13) অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন। (14) নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (15) মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। (16) এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। (17) এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না। (18) এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না। (19) এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল (20) এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস। (21) এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে (22) এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন, (23) এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? (24) সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম! (25) সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না। (26) এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না। (27) হে প্রশান্ত মন, (28) তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। (29) অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। (30) এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 89:1-30
10. সূরা আশ-শামস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالشَّمْسِ وَضُحٰيهَاۙۖ ١ وَالْقَمَرِ اِذَا تَلٰيهَاۙۖ ٢ وَالنَّهَارِ اِذَا جَلّٰيهَاۙۖ ٣ وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰيهَاۙۖ ٤ وَالسَّمَٓاءِ وَمَا بَنٰيهَاۙۖ ٥ وَالْاَرْضِ وَمَا طَحٰيهَاۙۖ ٦ وَنَفْسٍ وَمَا سَوّٰيهَاۙۖ ٧ فَاَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوٰيهَاۙۖ ٨ قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكّٰيهَاۙۖ ٩ وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰيهَاؕ ١٠ كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوٰيهَاۙۖ ١١ اِذِ انْبَعَثَ اَشْقٰيهَاۙۖ ١٢ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللّٰهِ نَاقَةَ اللّٰهِ وَسُقْيٰيهَاࣞ ١٣ فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَاۙۖ فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُمْ بِذَنْبِهِمْ فَسَوّٰيهَاۙۖ ١٤ وَلَا يَخَافُ عُقْبٰيهَا ١٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ সূর্যের ও তার কিরণের, (2) শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে, (3) শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে, (4) শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে, (5) শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর। (6) শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর, (7) শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, (8) অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, (9) যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। (10) এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। (11) সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ মিথ্যারোপ করেছিল। (12) যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল। (13) অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক। (14) অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন। (15) আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।
সূত্র: আল-কুরআন — 91:1-15
11. সূরা আল-লাইল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰىۙ ١ وَالنَّهَارِ اِذَا تَجَلّٰىۙ ٢ وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰىۙ ٣ اِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتّٰىؕ ٤ فَاَمَّا مَنْ اَعْطٰى وَاتَّقٰىۙ ٥ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنٰىۙ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرٰىؕ ٧ وَاَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنٰىۙ ٨ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنٰىۙ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرٰىؕ ١٠ وَمَا يُغْنٖي عَنْهُ مَالُـهُٓ اِذَا تَرَدّٰىؕ ١١ اِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدٰىؗ ١٢ وَاِنَّ لَنَا لَلْاٰخِرَةَ وَالْاُو۫لٰى ١٣ فَاَنْذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظّٰىۚ ١٤ لَا يَصْلٰيهَٓا اِلَّا الْاَشْقٰىۙ ١٥ اَلَّذٖي كَذَّبَ وَتَوَلّٰىؕ ١٦ وَسَيُجَنَّبُهَا الْاَتْقٰىۙ ١٧ اَلَّذٖي يُؤْتٖي مَالَهُ يَتَزَكّٰىۚ ١٨ وَمَا لِاَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِعْمَةٍ تُجْزٰىۙ ١٩ اِلَّا ابْتِغَٓاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْاَعْلٰىۚ ٢٠ وَلَسَوْفَ يَرْضٰى ٢١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে, (2) শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয় (3) এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন, (4) নিশ্চয় তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের। (5) অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, (6) এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, (7) আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব। (8) আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় (9) এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, (10) আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব। (11) যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে না। (12) আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা। (13) আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের। (14) অতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। (15) এতে নিতান্ত হতভাগ্য ব্যক্তিই প্রবেশ করবে, (16) যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (17) এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে, (18) যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে। (19) এবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না। (20) তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত। (21) সে সত্বরই সন্তুষ্টি লাভ করবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 92:1-21
12. সূরা আদ-দুহা
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالضُّحٰىۙ ١ وَالَّيْلِ اِذَا سَجٰىۙ ٢ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلٰىؕ ٣ وَلَلْاٰخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْاُو۫لٰىؕ ٤ وَلَسَوْفَ يُعْطٖيكَ رَبُّكَ فَتَـرْضٰىؕ ٥ اَلَمْ يَجِدْكَ يَتٖيمًا فَاٰوٰىۖ ٦ وَوَجَدَكَ ضَٓالًّا فَهَدٰىۖ ٧ وَوَجَدَكَ عَٓائِلًا فَاَغْنٰىۜ ٨ فَاَمَّا الْيَتٖيمَ فَلَا تَقْهَرْؕ ٩ وَاَمَّا السَّٓائِلَ فَلَا تَنْهَرْؕ ١٠ وَاَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ পূর্বাহ্নের, (2) শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়, (3) আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেনি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি। (4) আপনার জন্যে পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়। (5) আপনার পালনকর্তা সত্বরই আপনাকে দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন। (6) তিনি কি আপনাকে এতীমরূপে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। (7) তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। (8) তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন। (9) সুতরাং আপনি এতীমের প্রতি কঠোর হবেন না; (10) সওয়ালকারীকে ধমক দেবেন না। (11) এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 93:1-11
13. সূরা আশ-শারহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَۙ ١ وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَۙ ٢ اَلَّـذٖٓي اَنْقَضَ ظَهْرَكَۙ ٣ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَؕ ٤ فَاِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاۙ ٥ اِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاۜ ٦ فَاِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْۙ ٧ وَاِلٰى رَبِّكَ فَارْغَبْ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি? (2) আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা, (3) যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ। (4) আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি। (5-6) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (7) অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন। (8) এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 94:1-8
14. সূরা আত-তীন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالتّٖينِ وَالزَّيْتُونِۙ ١ وَطُورِ سٖينٖينَۙ ٢ وَهٰذَا الْبَلَدِ الْاَمٖينِۙ ٣ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ فٖٓي اَحْسَنِ تَقْوٖيمٍؗ ٤ ثُمَّ رَدَدْنَاهُ اَسْفَلَ سَافِلٖينَۙ ٥ اِلَّا الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ اَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍؕ ٦ فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدّٖينِؕ ٧ اَلَيْسَ اللّٰهُ بِاَحْكَمِ الْحَاكِمٖينَ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের, (2) এবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের, (3) এবং এই নিরাপদ নগরীর। (4) আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। (5) অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে। (6) কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার। (7) অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে? (8) আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?
সূত্র: আল-কুরআন — 95:1-8
15. সূরা আল-আলাক
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذٖى خَلَقَۚ ١ خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍۚ ٢ اِقْرَاْ وَرَبُّكَ الْاَكْرَمُۙ ٣ اَلَّذٖي عَلَّمَ بِالْقَلَمِۙ ٤ عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْؕ ٥ كَلَّٓا اِنَّ الْاِنْسَانَ لَيَطْغٰىۙ ٦ اَنْ رَاٰهُ اسْتَغْنٰىؕ ٧ اِنَّ اِلٰى رَبِّكَ الرُّجْعٰىؕ ٨ اَرَاَيْتَ الَّذٖي يَنْهٰىۙ ٩ عَبْدًا اِذَا صَلّٰىۜ ١٠ اَرَاَيْتَ اِنْ كَانَ عَلَى الْهُدٰىۙ ١١ اَوْ اَمَرَ بِالتَّقْوٰىؕ ١٢ اَرَاَيْتَ اِنْ كَذَّبَ وَتَوَلّٰىؕ ١٣ اَلَمْ يَعْلَمْ بِاَنَّ اللّٰهَ يَرٰىؕ ١٤ كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ۬ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِۙ ١٥ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍۚ ١٦ فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۙ ١٧ سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَۙ ١٨ كَلَّاؕ لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ ١٩
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (2) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। (3) পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, (4) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, (5) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (6) সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে, (7) এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। (8) নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে। (9) আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে (10) এক বান্দাকে যখন সে নামায পড়ে? (11) আপনি কি দেখেছেন যদি সে সৎপথে থাকে। (12) অথবা খোদাভীতি শিক্ষা দেয়। (13) আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (14) সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? (15) কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- (16) মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। (17) অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক। (18) আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে (19) কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।
সূত্র: আল-কুরআন — 96:1-19
16. সূরা আল-কদর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِنَّٓا اَنْزَلْنَاهُ فٖي لَيْلَةِ الْقَدْرِۚ ١ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِؕ ٢ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ اَلْفِ شَهْرٍؕ ٣ تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوحُ فٖيهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْۚ مِنْ كُلِّ اَمْرٍۙۛ ٤ سَلَامٌࣞۛ هِيَ حَتّٰى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে। (2) শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? (3) শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (4) এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (5) এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
সূত্র: আল-কুরআন — 97:1-5
17. সূরা আল-বাইয়্যিনাহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ لَمْ يَكُنِ الَّذٖينَ كَفَرُوا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكٖينَ مُنْفَكّٖينَ حَتّٰى تَاْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُۙ ١ رَسُولٌ مِنَ اللّٰهِ يَتْلُوا صُحُفًا مُطَهَّرَةًۙ ٢ فٖيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌؕ ٣ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذٖينَ اُو۫تُوا الْكِتَابَ اِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَٓاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُؕ ٤ وَمَٓا اُمِرُٓوا اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصٖينَ لَهُ الدّٖينَ حُنَفَٓاءَ وَيُقٖيمُوا الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكٰوةَ وَذٰلِكَ دٖينُ الْقَيِّمَةِؕ ٥ اِنَّ الَّذٖينَ كَفَرُوا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكٖينَ فٖي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدٖينَ فٖيهَاؕ اُو۬لٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِؕ ٦ اِنَّ الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِۙ اُو۬لٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِؕ ٧ جَزَٓاؤُ۬هُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرٖى مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدٖينَ فٖيهَٓا اَبَدًاۜ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُۜ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত। (2) অর্থাৎ আল্লাহর একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা, (3) যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু। (4) অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই। (5) তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। (6) আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। (7) যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা। (8) তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।
সূত্র: আল-কুরআন — 98:1-8
18. সূরা আয-যিলযাল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِذَا زُلْزِلَتِ الْاَرْضُ زِلْزَالَهَاۙ ١ وَاَخْرَجَتِ الْاَرْضُ اَثْقَالَهَاۙ ٢ وَقَالَ الْاِنْسَانُ مَا لَهَاۚ ٣ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخْبَارَهَاۙ ٤ بِاَنَّ رَبَّكَ اَوْحٰى لَهَاؕ ٥ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ اَشْتَاتًا لِيُرَوْا اَعْمَالَهُمْۜ ٦ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُۜ ٧ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, (2) যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। (3) এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? (4) সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, (5) কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। (6) সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। (7) অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে (8) এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 99:1-8
19. সূরা আল-আদিয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًاۙ ١ فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًاۙ ٢ فَالْمُغٖيرَاتِ صُبْحًاۙ ٣ فَاَثَرْنَ بِهٖ نَقْعًاۙ ٤ فَوَسَطْنَ بِهٖ جَمْعًاۙ ٥ اِنَّ الْاِنْسَانَ لِرَبِّهٖ لَكَنُودٌۚ ٦ وَاِنَّهُ عَلٰى ذٰلِكَ لَشَهٖيدٌۚ ٧ وَاِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدٖيدٌؕ ٨ اَفَلَا يَعْلَمُ اِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِۙ ٩ وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِۙ ١٠ اِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبٖيرٌ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) শপথ উর্ধ্বশ্বাসে চলমান অশ্বসমূহের, (2) অতঃপর ক্ষুরাঘাতে অগ্নিবিচ্ছুরক অশ্বসমূহের (3) অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্বসমূহের (4) ও যারা সে সময়ে ধুলি উৎক্ষিপ্ত করে (5) অতঃপর যারা শক্রদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে- (6) নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। (7) এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত (8) এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত। (9) সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে (10) এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে? (11) সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।
সূত্র: আল-কুরআন — 100:1-11
20. সূরা আল-কারিয়াহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلْقَارِعَةُۙ ١ مَا الْقَارِعَةُۚ ٢ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا الْقَارِعَةُۜ ٣ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِۙ ٤ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِۜ ٥ فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازٖينُهُۙ ٦ فَهُوَ فٖي عٖيشَةٍ رَاضِيَةٍؕ ٧ وَاَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازٖينُهُۙ ٨ فَاُمُّهُ هَاوِيَةٌؕ ٩ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا هِيَهْؕ ١٠ نَارٌ حَامِيَةٌ ١١
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) করাঘাতকারী, (2) করাঘাতকারী কি? (3) করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? (4) যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত (5) এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। (6) অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, (7) সে সুখীজীবন যাপন করবে। (8) আর যার পাল্লা হালকা হবে, (9) তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। (10) আপনি জানেন তা কি? (11) প্রজ্জ্বলিত অগ্নি!
সূত্র: আল-কুরআন — 101:1-11
21. সূরা আত-তাকাসুর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلْهٰيكُمُ التَّكَاثُرُۙ ١ حَتّٰى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَؕ ٢ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَۙ ٣ ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَؕ ٤ كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقٖينِؕ ٥ لَتَرَوُنَّ الْجَحٖيمَۙ ٦ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقٖينِۙ ٧ ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعٖيمِ ٨
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে, (2) এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। (3) এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। (4) অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। (5) কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। (6) তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, (7) অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, (8) এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
সূত্র: আল-কুরআন — 102:1-8
22. সূরা আল-আসর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَالْعَصْرِۙ ١ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفٖي خُسْرٍۙ ٢ اِلَّا الَّذٖينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) কসম যুগের (সময়ের), (2) নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; (3) কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।
সূত্র: আল-কুরআন — 103:1-3
23. সূরা আল-হুমাযাহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍۙ ١ اَلَّذٖى جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُۙ ٢ يَحْسَبُ اَنَّ مَالَـهُٓ اَخْلَدَهُۚ ٣ كَلَّا لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِؗ ٤ وَمَٓا اَدْرٰيكَ مَا الْحُطَمَةُؕ ٥ نَارُ اللّٰهِ الْمُوقَدَةُۙ ٦ اَلَّتٖي تَطَّلِعُ عَلَى الْاَفْـِٔدَةِؕ ٧ اِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُؤْصَدَةٌۙ ٨ فٖي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ ٩
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, (2) যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে (3) সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে! (4) কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। (5) আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? (6) এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, (7) যা হৃদয় পর্যন্ত পৌছবে। (8) এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে, (9) লম্বা লম্বা খুঁটিতে।
সূত্র: আল-কুরআন — 104:1-9
24. সূরা আল-ফীল
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفٖيلِؕ ١ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فٖي تَضْلٖيلٍۙ ٢ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابٖيلَۙ ٣ تَرْمٖيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجّٖيلٍۙۖ ٤ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَاْكُولٍ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? (2) তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? (3) তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, (4) যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। (5) অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
সূত্র: আল-কুরআন — 105:1-5
25. সূরা কুরাইশ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ لِاٖيلَافِ قُرَيْشٍۙ ١ اٖيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَٓاءِ وَالصَّيْفِۚ ٢ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِۙ ٣ اَلَّذٖٓى اَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَاٰمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ ٤
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) কোরাইশের আসক্তির কারণে, (2) আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। (3) অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার (4) যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।
সূত্র: আল-কুরআন — 106:1-4
26. সূরা আল-মাউন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اَرَاَيْتَ الَّذٖى يُكَذِّبُ بِالدّٖينِۜ ١ فَذٰلِكَ الَّذٖى يَدُعُّ الْيَتٖيمَۙ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكٖينِۜ ٣ فَوَيْلٌ لِلْمُصَلّٖينَۙ ٤ اَلَّذٖينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَۙ ٥ اَلَّذٖينَ هُمْ يُرَٓاؤُ۫نَۙ ٦ وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ ٧
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে? (2) সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয় (3) এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না। (4) অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, (5) যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; (6) যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে (7) এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।
সূত্র: আল-কুরআন — 107:1-7
27. সূরা আল-কাওসার
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِنَّٓا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَۜ ١ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْۜ ٢ اِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْاَبْتَرُ ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। (2) অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। (3) যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।
সূত্র: আল-কুরআন — 108:1-3
28. সূরা আল-কাফিরুন
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ يَٓا اَيُّهَا الْكَافِرُونَۙ ١ لَٓا اَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَۙ ٢ وَلَٓا اَنْتُمْ عَابِدُونَ مَٓا اَعْبُدُۚ ٣ وَلَٓا اَنَا۬ عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْۙ ٤ وَلَٓا اَنْتُمْ عَابِدُونَ مَٓا اَعْبُدُۜ ٥ لَكُمْ دٖينُكُمْ وَلِىَ دٖينِ ٦
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, হে কাফেরকূল, (2) আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। (3) এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি (4) এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। (5) তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। (6) তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।
সূত্র: আল-কুরআন — 109:1-6
29. সূরা আন-নাসর
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ اِذَا جَٓاءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُۙ ١ وَرَاَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فٖى دٖينِ اللّٰهِ اَفْوَاجًاۙ ٢ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُۜ اِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ٣
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় (2) এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, (3) তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।
সূত্র: আল-কুরআন — 110:1-3
30. সূরা আল-মাসাদ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ تَبَّتْ يَدَٓا اَبٖى لَهَبٍ وَتَبَّۜ ١ مَٓا اَغْنٰى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَۜ ٢ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍۚ ٣ وَامْرَاَتُهُۜ حَمَّالَةَ الْحَطَبِۚ ٤ فٖى جٖيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, (2) কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। (3) সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে (4) এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, (5) তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।
সূত্র: আল-কুরআন — 111:1-5
31. সূরা আল-ইখলাস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌۚ ١ اَللّٰهُ الصَّمَدُۚ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْۙ ٣ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا اَحَدٌ ٤
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, (2) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, (3) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি (4) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
সূত্র: আল-কুরআন — 112:1-4
32. সূরা আল-ফালাক
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِۙ ١ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَۙ ٢ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ ٣ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِى الْعُقَدِۙ ٤ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ٥
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, (2) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, (3) অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, (4) গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে (5) এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
সূত্র: আল-কুরআন — 113:1-5
33. সূরা আন-নাস
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّح۪يمِ قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ ١ مَلِكِ النَّاسِۙ ٢ اِلٰهِ النَّاسِۙ ٣ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِۙ ٤ اَلَّذٖى يُوَسْوِسُ فٖى صُدُورِ النَّاسِۙ ٥ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ٦
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (1) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, (2) মানুষের অধিপতির, (3) মানুষের মা’বুদের (4) তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, (5) যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে (6) জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
সূত্র: আল-কুরআন — 114:1-6
🤲 এই দোয়াগুলো পড়ার সময় অনুগ্রহ করে আমাদের, এই কাজে যারা অবদান রেখেছেন তাদের এবং সকল মুমিনকে আপনার দোয়ায় স্মরণ করুন। আল্লাহ আপনার ইবাদত ও দোয়া কবুল করুন।
ধাপে ধাপে উমরাহ · adimadimumre.com · Google Play · App Store